বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫২ অপরাহ্ন
ভয়েস নিউজ ডেস্ক:
এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে আপাতত কোনো আইনগত বাধা নেই। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
নির্বাচন কমিশনও (ইসি) বলছে, আইন সংশোধন না হলে বিদ্যমান আইন অনুসারেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। ফলে আইন সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ থাকছে।
নির্বাচন কমিশন অবশ্য এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণার সুপারিশ করে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন সংশোধনের প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। তফসিল ঘোষণার আগে আইন সংশোধন হলে তাদের প্রার্থিতার সুযোগ বন্ধ হতে পারে। তবে, আইন সংশোধন না হলে বিদ্যমান বিধান অনুযায়ীই প্রার্থীর যোগ্যতা নির্ধারিত হবে।
আইন সংশোধনে ইসির প্রস্তাব
স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন সংশোধনের জন্য একাধিক প্রস্তাব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং ঋণখেলাপিদের পাশাপাশি তাদের জামিনদারদেরও প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব রয়েছে।
কমিশনের যুক্তি, এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা সরকারি আর্থিক সুবিধা পান। তাদের জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিলে একই সময়ে দুটি দায়িত্ব পালনের প্রশ্ন উঠতে পারে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
তবে, আইন সংশোধনের প্রস্তাব পাঠানো হলেও তা কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান আইনই প্রার্থীর যোগ্যতা নির্ধারণের ভিত্তি থাকবে।
সম্প্রতি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থিতার বিষয়টি স্থানীয় সরকার আইন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালার আলোকে বিবেচনা করতে হবে। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫ এ একই সময়ে একাধিক পদ বা আর্থিক লাভজনক পদে নিয়োজিত থাকার বিষয়ে বিধিনিষেধ রয়েছে।
তবে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পূর্ণাঙ্গ জাতীয়করণ না হওয়া পর্যন্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে আইনগত বা নীতিগত বাধা নেই।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন যে আইন কার্যকর থাকবে, সেই আইন অনুযায়ী প্রার্থীর যোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে।
নতুন বিধান অনুযায়ী, চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে জামানত দিতে হবে ২৫ হাজার টাকা। সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্য পদে জামানত নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ হাজার টাকা।
তিনি বলেন, আইন পরিবর্তন করতে হলে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগেই তা করতে হবে। একই নির্বাচনে এক এলাকায় শিক্ষকের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ থাকবে, অন্য এলাকায় থাকবে না এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে না।
পাঁচ ধাপে ভোট, শুরু ২১ জানুয়ারি
চলতি মাসের শুরুতে কমিশন সভায় পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি, দ্বিতীয় ধাপে ৪ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় ধাপে ২৯ এপ্রিল, চতুর্থ ধাপে ১৩ মে এবং পঞ্চম ধাপে ২৭ মে ভোটগ্রহণ হবে।
নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, এর আগে সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে, সময়ের স্বল্পতার কারণে ধাপ কমিয়ে পাঁচটি করা হয়েছে। আগামী বছরের মে মাসের মধ্যে আইন অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হওয়া ইউনিয়ন পরিষদগুলোর নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। এ ক্ষেত্রে মেয়াদ শেষ হওয়া ইউনিয়নগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
তিনি জানান, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা তফসিল ঘোষণা করবেন। সাধারণত ভোটের ৪২ থেকে ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণার উদ্যোগ নেওয়া হবে। নির্বাচনের সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে ঈদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা ও বিশ্ব ইজতেমাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
বেড়েছে জামানত ও নির্বাচনী ব্যয়ের সীমা
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত পাঁচ গুণ এবং সর্বোচ্চ নির্বাচনি ব্যয়ের সীমা দ্বিগুণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন বিধান অনুযায়ী, চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে জামানত দিতে হবে ২৫ হাজার টাকা। সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্য পদে জামানত নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ হাজার টাকা।
সম্প্রতি প্রকাশিত সংশোধিত নির্বাচনি বিধিমালায় এসব পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর আগে, চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত ছিল পাঁচ হাজার টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর এক হাজার টাকা।
নতুন বিধান অনুযায়ী, চেয়ারম্যান প্রার্থীরা নির্বাচনে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ব্যয় করতে পারবেন। সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্য প্রার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ ব্যয়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ টাকা। আগে এই সীমা ছিল যথাক্রমে পাঁচ লাখ ও এক লাখ টাকা।
সংশোধিত বিধিমালায় জামানত ফেরত পাওয়ার শর্তেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন কোনো প্রার্থীকে প্রদত্ত মোট ভোটের অন্তত ১৫ শতাংশ পেতে হবে। এর কম ভোট পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে সরকারি কোষাগারে জমা হবে। আগে জামানত বাজেয়াপ্তের ক্ষেত্রে প্রদত্ত ভোটের এক-অষ্টমাংশের শর্ত ছিল। নতুন বিধানে সেই সীমা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে।
ভয়েস/আআ